নির্বাচন ও আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতির কারণে ভয়াবহ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কাঁচামাল ও পণ্য খালাস মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রপ্তানি, আমদানি ও জাতীয় রাজস্বে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার জমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯০০টি। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ২ হাজার ৮০০টি রপ্তানি কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হতো, কর্মবিরতির কারণে তা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। একই সঙ্গে আমদানি পণ্যের কনটেইনার খালাস কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, কর্মবিরতির প্রভাবে গত তিন দিনে রাজস্ব আদায় কমেছে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৭০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, সেখানে বর্তমানে তা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ শফিউদ্দিন সমকালকে বলেন, “বন্দরের খালাস কার্যক্রম কমে যাওয়ায় শুল্কায়ন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি রাজস্ব আদায়ে পড়ছে।”
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মবিরতির কারণে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি পূর্ণ শিফটে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকছে। এ সময়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাং ও যন্ত্রপাতি পরিচালনায় শ্রমিক ও অপারেটরের অভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক সমকালকে বলেন, “কর্মবিরতির মধ্যেও সীমিত আকারে কাজ চলছে, তবে স্বাভাবিক কার্যক্রম অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। সামনে নির্বাচন ও রমজান—এই সময় আন্দোলন আরও সংকট তৈরি করতে পারে।”
এদিকে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে মোট ৯৮টি জাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে কনটেইনার, খাদ্যপণ্য, চিনি, লবণ ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ। আন্দোলন চলমান থাকলে রমজানের আগে জাহাজজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার সমকালকে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি কর্মবিরতি হলে রপ্তানি পণ্য সময়মতো পাঠানো যাবে না। এতে বিদেশি জাহাজ কনটেইনার না নিয়েই বন্দর ত্যাগ করবে, যা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।”
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, টানা কর্মবিরতি, নির্বাচনী ছুটি ও রমজানের চাপ একসঙ্গে পড়লে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। তারা দ্রুত সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সূত্র: সমকাল প্রতিবেদন