বাংলাদেশে মাছ শুধু খাবার হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি মানুষের জীবনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। “মাছে ভাতে বাঙালি” কথাটি এখানকার খাদ্যসংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলে। দেশের মোট অসভেজাত খাবারের প্রায় ৬০% মাছ থেকেই আসে।
২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের মৎস্য সম্পদ অনুযায়ী তৃতীয় স্থানে ছিল।
সেই বছরে দেশ প্রায় ২০ মিলিয়ন টন মাছ উৎপাদন করে এবং জিডিপিতে ৩.৫৭% অবদান রাখে।
২০২১-২২ অর্থবছরে মাছ ও মাছজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৩৩ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা দেশের মোট রপ্তানির ১%-এরও বেশি।
মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য বাংলাদেশ থেকে ৫০-এর বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়।
বাংলাদেশের মৎস্য উৎপাদন মূলত তিনটি উৎস থেকে আসে:
অভ্যন্তরীণ পানিসম্পদ – নদী, খাল, হাওর, বাহের মতো জলাশয়।
অভ্যন্তরীণ চাষ (ফিশ কালচার) – পুকুর, খামার ইত্যাদি।
সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ – বঙ্গোপসাগর থেকে।
বর্তমানে মোট মাছের উৎপাদনের **প্রায় ৫৭%**ই চাষি পদ্ধতিতে আসে।
দেশটির জাতীয় মাছ ইলিশ (Hilsa) মাছ উৎপাদনে শীর্ষে থাকার ফলে এটি দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২%-এরও বেশিদেহায়।
সামুদ্রিক চিংড়ি (shrimp) ও অন্যান্য সমুদ্রজাত মাছও রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মৎস্য শিল্প বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন:
অপ্রতিষ্ঠিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার কারণে নদী ও জলাশয়ের মাছ কমছে।
জলাশয়ের দূষণ, শিল্প বর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণের ফলে মাছের প্রজনন কমে যাচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র স্তরের উর্ধ্বগতি ও বন্যা-জলাবদ্ধতা মাছ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মাছ চাষের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে দেশীয় মাছের দাম বেড়ে যায় এবং কিছু মাছ আমদানি করা হয়।
বাংলাদেশের মৎস্য শিল্পে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে:
বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রজীব বৈচিত্র্য উন্নতভাবে কাজে লাগালে বড় ধরনের উৎপাদন সম্ভব।
মাছ ধরার নৌকা ও যন্ত্রপাতি উন্নত করলে সমুদ্র মাছ ধরার সুযোগ বাড়বে।
ফিশ প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ সুবিধা উন্নত করলে রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে।