চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে অন্তত ৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১০ থেকে ১৫ জন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোডসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যে জাহাজটি কাটার কাজ চলছিল সেটি একটি পুরোনো এলএনজি বহনকারী জাহাজ। জাহাজটির একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর জাহাজের ভেতরে থাকা কয়েকজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতার কারণে উদ্ধারকারীদের জন্যও জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ ও অচেতন শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফায় আহত শ্রমিকদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেও কয়েকজনের মরদেহ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা আটজনে পৌঁছেছে।

নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁদের সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে কয়েকজন অসুস্থ শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গ্যাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল বলে স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, সাগর থেকে ফেরার সময় তাঁদের নৌকাও ইয়ার্ডের পাশের খালে ঢুকতে পারেনি। গ্যাসের গন্ধ এড়িয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে বলে জানান একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংক যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা (gas-free) জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ট্যাংক যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ করায় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জাহাজের কিছু ট্যাংকে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস থাকার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে।