মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার দাবি করেছেন, ইরান থেকে তেল কেনার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার একটি চুক্তি করেছে ভারত। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই সেই চুক্তি করেছি, অন্তত চুক্তির ধারণাগত কাঠামো ঠিক হয়েছে। এএনআই প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, চীন চাইলে এসে তেলের ব্যাপারে দারুণ একটি চুক্তি করতে পারে। আমরা ইতিমধ্যেই একটি চুক্তি করেছি। ভারত আসছে এবং তারা ইরানের বদলে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে। সুতরাং চুক্তির ধারণাটা ইতিমধ্যেই তৈরি (হয়েছে)। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ভেনেজুয়েলার তেল কেনা ভারতসহ দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতকে শুল্কের আওতায় এনেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, রুশ তেল কেনার মাধ্যমে ভারত ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধকে অর্থায়ন করছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলার ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ব্লুমবার্গ সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও মিসিসিপির শোধনাগারগুলোর উদ্দেশে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ পাঠানো হয়েছে। যার পরিমাণ ডিসেম্বর ২০২৪-এর পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে মোট অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছাতে যাচ্ছে, যা গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে, গত বছর দৈনিক গড়ে ৪ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করা চীনে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ নেমে এসেছে শূন্যে। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এতে দু’দেশ আগামী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়।